►মেজর (অব.) চাকলাদার
১৯০৮ সনে কোলকাতাতে হকি খেলা দেখে নবাব স্যার সলিমুল্লাহ নবাব বাড়ির উঠতি যুবকদের জন্য কোলকাতার ‘হোয়াইট ওয়েজ’ ডিপার্টমেন্টাল দোকান থেকে হকি স্টিক নিয়ে আসেন। সেই থেকে ঢাকাতে হকির শুরু। নবাব বাড়ির যুবকরা সলিমুল্লাহকে নিরাশ করেনি। ইউসুফ রেজা ভারতীয় অলিম্পিক দলে অন্তর্ভুক্ত হয়ে ছিলেন। ধ্যানচাঁদের হকি দল অলিম্পিকে সোনা পেতই তবে বিশ্বযুদ্ধের জন্য অলিম্পিক না হওয়াতে ইউসুফ রেজার সাথে ঢাকা ও অলিম্পিক সোনা থেকে বঞ্চিত হয়। সোজা কথা হলো ঢাকা হকির ঐতিহ্য বহন করে। সেই ঢাকা হকি খেলার সাথে হকির দর্শকদেরও স্টেডিয়ামমুখী করেছিল। স্বাধীনতার আগ দিয়ে ঢাকার হকি বিহারি খেলোয়াড়দের দেখেছে, পিডব্লিডি, ইস্পাহানি দল, কিছু ওয়ারি ক্লাবে তাদের দেখা যেত। উর্দুতেই তারা বেশি ‘বাত চিত’ করত। ঢাকা র হকি বলতে আরমানিটোলা ছিল হকির খনি। নবাববাড়ির হকি খেলোয়াড় ও ঢাকার মাঠ কাঁপাতো, এরাও উর্দু কথা বলত; তবে তা ব্যাকরণ সিদ্ধ ছিল না। অনেকটা ‘হামকো বাড়ি, তুমকো দাওয়াত’।
ঢাকার হকি খেলাকে আন্তর্জাতিক মর্যাদা পেল ১৯৭০ সনে আব্দুস সাদেক বিশ্বজয়ী পাকিস্তান দলের সাথে বিশ্ব ট্যুরে যাওয়াতে। তবে এমনিতে পাকিস্তান দল আব্দুস সাদেককে দলে নেয় নি। পাকিস্তান দল বিশ্ব জয় করে ঢাকাতে প্রদর্শনী খেলতে এসেছিল। প্রথম তারা তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তান দলে পাকিস্তান দলের কিছু খেলোয়াড় দিতে চেয়েছিল তবে তা মানা না হওয়াতে সম্পূর্ণ বাঙালিদের দিয়ে তৈরি হয় পূর্ব পাকিস্তান দল। পাকিস্তান দল তানভির দারের পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে ১-০ গোলে জিতেছিল। আব্দুস সাদেক দেখিয়ে ছিল, হারবো না, পারলে হারাও। ১৯৭০ সনে পূর্ব পাকিস্তানের সর্বত্র মানুষ জ্বলছে বৈষ্যমের আগুনে, হকিতেও দেখল বৈষম্য। লজ্জা ঢাকতে আব্দুস সাদেককে বিশ্ব ট্যুরে পাকিস্তান দলে নেয়।
ঐ খেলাটা ছিল অনুপ্রেরণা, ছিল দিক নির্দেশনা। ১৯৮৫ সনে এশিয়া কাপে ঐ পাকিস্তানকে নাকানি চুবানি খাইয়ে ছিল বাংলাদেশ হকি দল। কিসমত আর টিসা দুজনে মিলে তিনবার গোলকিপারকে একা পেয়েও গোল করতে না পারাতে পাকিস্তান হাসান সরদারের এক মাত্র গোলে জয়ী হয়। তবে দর্শক তাদের ‘মন কি বাত’ পুরোটাই কড়ায় গন্ডায় বুঝে পেয়ে ছিল।হকি খেলা দেখতে বিশ্বের আর কোথায়ও এত দর্শক হয় নাই।
আজও হকি হয়, আছে দুর্দান্ত সব খেলোয়াড় তবে মাঠ ভরার দর্শক নাই। এই মাঠ ভরা দর্শক কই?
হকিকে দাগাতে হবেই—
‘কোন কুলে আজ ভিরল তরি
এ কোন সোনার গাঁয়
আমার ভাটির তরি আবার কেন
উজান যেতে চায়!’
হকির যে দর্শকহীন পরিবেশ, এ থেকে নিস্তার পেতেই হবে। ‘গুগল’ দেখাল মরুভূমি সবুজ ঘাঁসে ভরে গেছে, ইনশাল্লাহ ,আমাদের হকি স্টেডিয়ামও দর্শক পূর্ণ হবে, দরকার নিবেদিত প্রাণ হকি জ্ঞানসম্পন্ন কর্মকর্তা ।
লেখক : সাবেক অধিনায়ক জাতীয় ও সেনাবাহিনী হকি দল এবং জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত
দেশকণ্ঠ/আসো