মো. আব্দুল ওয়ারেছ, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : ধান আর লিচুর জেলা হিসেবে পরিচিত দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় চা চাষের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। চা চাষ লাভজনক হওয়ায় চা চাষে ঝুকছেন কৃষকেরা। উপজেলায় পরীক্ষা মুলকভাবে চা চাষ শুরু হলেও বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে চা চাষ। তাই দিন দিন বাড়ছে চা বাগান এবং বাড়ছে চা চাষীর সংখ্যা।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের ঝলঝলি গ্রামের নজরুল ইসলাম ২০১৬সালে এক একর জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে চা চাষ শুরু করেন। নজরুল ইসলামের চা চাষের সাফল্য দেখে উপজেলার পাল্টাপুর আশ্রায়ন গ্রামের আজাদ আলী চা চাষ শুরু করেন। এরপর এই এলাকায় বাড়তে থাকে চা চাষীর সংখ্যা। ৫বছরে উপজেলায় চা চাষের জমির পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ১৪.২৫ হেক্টর। বর্তমানে চা চাষীর সংখ্যা ১১জন। এর বাইরে আরও বেশ কিছু কৃষক রয়েছেন যারা নতুন নতুন বাগান তৈরী করছেন বলে জানা গেছে।
চা চাষী মো. নজরুল ইসলাম জানান, ২০১৬সালে এক একর জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে চা চাষ শুরু করেন। চা বাগান প্রস্তুত করে চা চারা রোপন করতে এক একরে খরচ হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার টাকা। গাছের বয়স ২ বছর হওয়ার পর প্রতি মাসে চা পাতা বিক্রয় করা হয় ২৫ হাজার টাকার। পার্শ্ববর্তী জেলার পঞ্চগড় নর্থ বেঙ্গল চা কারখানায় বিক্রি করেন। এই চা পাতা ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। তবে বেশিক মহামারী কারণে চাহিদা কম থাকায় বর্তমানে চা পাতার দাম কিছুটা কমেছে। বর্তমানে সাড়ে ২১টাকা দরে পপুলার চা কারখানায় বিক্রয় করা হয়েছে। ৪০দিন পর পর বাগান হতে চা পাতা সংগ্রহ করা হয়। এতে করে ১একর জমিতে ৩৫হাজার টাকার চাপাতা বিক্রয় করা হয়। চা বাগানে পরিচর্যা ছাড়া তেমন আর কোনো খরচ নেই। বছরে দুইবার সার দিলেই চলে। জৈব সার চা বাগানের জন্য খুবই উপযোগী।
পাল্টাপুর ইউনিয়নের পাল্টাপুর গ্রামের আজাদ আলী জানান, ৫বছর পুর্বে ১একর জমিতে একটি চা বাগান করেন তিনি। ৪০দিন পর পর বাগান হতে চা গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ১৫দিন আগে ৫০০কেজি চা পাতা উত্তোলন করে পঞ্চগড়ে বিক্রয় করেন। প্রতি কেজি চা পাতার দাম ২৩টাকা করে ধরা হয়েছে। এর আগে ৩০০শত কেজি চা পাতা গ্রহন করা হয়। অর্থাৎ দিন দিন চা উৎপাদনের পরিমান বাড়ছে বলে তিনি জানান। ঝুকি কম এবং অন্যান্য ফসলের চেয়ে লাভজনক হওয়ায় এ এলাকায় চাষ বাড়ছে। আগ্রহী কৃষকরা চা বাগান পরিদর্শনে এসে বাগান করার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।
বীরগঞ্জ পৌর শহরের বাসিন্দা রফিকুল আলম বাবুল জানান, লাভজনক হওয়ায় চা বাগান পরিদর্শন শেষে নিজে চা বাগান করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত মে মাসে ২একর জমিতে চা গাছের চারা রোপন করা হয়েছে। দুয়েক দিনে আরো কিছু জমিতে চায়ের চারা লাগানো হবে। পর্যায়ক্রমে বাগানের পরিধি আরও বাড়ানো হবে বলে তিনি জানান।
বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার আবুরেজা মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, উচু এবং পতিত জমিতে চাষে আমরা সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে আসছি। তবে ধান ও অন্যান্য ফসলের জমি নষ্ট করে চা বাগান তৈরী না করার জন্য আগ্রহী চাষীদের আমরা পরামর্শ দিয়ে থাকি। তারপরেও পাশের জেলা পঞ্চগড়ে চা চাষে অভাবনীয় সাফল্যের পর আমাদের উপজেলাতে চা বাগানের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।
দেশকণ্ঠ/আসো